বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনকে চেনে না পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়!

  • 0 81
  • Shared 2 months ago
  • Label:
  • rnবীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনকে চেনে না পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়rnrnবামে ভুল পরিচয়ে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন, ডানে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের প্রকৃত প্রতিকৃতিrnবিজয় দিবসে রাজ

    ...

    rnবীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনকে চেনে না পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়rnrnবামে ভুল পরিচয়ে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন, ডানে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের প্রকৃত প্রতিকৃতিrnবিজয় দিবসে রাজধানীজুড়েই শোভা পাচ্ছে জাতির সাত বীরশ্রেষ্ঠের নাম ও ছবি সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন। রাজধানীর বিজয় সরণিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারের সড়কদ্বীপেও রয়েছে বিজয় দিবসের নানা ফেস্টুন। তবে পথচারীদের অনেকের চোখ আটকে যাচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের ছবির দিকে। ছবিতে রুহুল আমিনকে দেখা গেলেও নিচে নাম লেখা আরেক বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের। এই ফেস্টুনগুলো লাগানো হয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে। আর মন্ত্রণালয়ের এই ভুলকে ‘বিকৃত এবং ক্ষমার অযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। তাদের মতে, জাতির সূর্যসন্তানদের নিয়ে এরকম ভুল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। লিফলেট কিংবা ব্যানার হচ্ছে যোগাযোগের একটি মাধ্যম। অথচ সেখানে আমরা ভুল প্রচারণা করছি। আর ভুল প্রচারণা মানেই বিকৃত প্রচারণা।rnrn১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থান ও সড়কে লাগানো হয়েছে সাত বীরশ্রেষ্ঠের নাম ও ছবি সম্বলিত ফেস্টুন। মূলত বিজয় দিবসে তাদেরকে শ্রদ্ধা জানাতে ও স্মরণ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।rnrnপরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা শেফায়েত হোসেন তাদের উদ্যোগ সম্পর্কে জানাতে গিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ কাজগুলো করা হয়েছে। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কদ্বীপে সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবি ও নাম দিয়ে এ ফেস্টুনগুলো লাগানো হয়েছে।’rnrnকয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে মন্ত্রণালয় কাজটি করেছে বলেও জানান তিনি। শেফায়েত হোসেন বলেন, ‘সরকারি কোনও অর্থ এ কাজে খরচ করা হয়নি।’rnrnতবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা ফেস্টুনে ভুলের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা অমার্জনীয় ভুল। এমন ভুল করা কোনোভাবেই উচিত হয়নি।’rnrnএদিকে ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশের এক জরিপে পাওয়া গেছে, দেশের ৫৫ শতাংশ মানুষ জানে না বিজয় দিবস কবে। এ ছাড়া দেশের শতকরা ৯৯ ভাগ মানুষই সাত বীরশ্রেষ্ঠের নাম জানে না। নানা রকমের শিক্ষা ব্যবস্থা থাকলে এটা হবেই। দেশে ইতিহাস পড়ানো হয় না। জাতীয় ইতিহাসকে পাঠ্য করার জন্য গত ২০ বছর ধরে নানা জায়গায় গিয়েছি, কিন্তু সায় পাচ্ছি না। ’ তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি- এ তিন বিষয়ে সামগ্রিক পরিকল্পনা নেওয়া উচিত। নানামুখী শিক্ষা মানুষকে বিভ্রান্তির মধ্যে নিয়ে যায়।’rnrnজাতীয় পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অবহেলা করা হচ্ছে জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আমরা কেবল বিকৃতিই দেখছি না, অবহেলাও দেখছি। এই অবহেলা আমাদেরকে রোধ করতে হবে। কারণ এটাও এক ধরনের বিকৃতি। যারা কাজটা করেছেন তারা বলতেই পারেন, কোনও অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এই ভুল কিংবা এই বিকৃতি করা হয়নি। এটা নিতান্তই একটা ভুল। কিন্তু আমি বলতে চাই, এই ভুল ক্ষমার অযোগ্য। কারণ, বাংলাদেশের সাত জন বীরশ্র্রেষ্ঠের নাম আমরা মনে রাখতে পারব না, তাদের একজনের ছবি দিয়ে আরেকজনের নাম দেবো, এটা হতে পারে না। আমাদের বীরশ্রেষ্ঠ এক হাজার জন নন যে এতগুলো নাম আমরা মনে রাখতে পারব না। যে ছবিগুলো ব্যানার-ফেস্টুনে ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলো আমরা ঠিকমতো শেখাতে পারছি না। কার ছবিতে কার নাম ব্যবহার করা হচ্ছে সেটা খেয়াল করলাম না, এটা হতে পারে না।’rnrnতুরিন আফরোজ আরও বলেন, ‘এ কারণেই আমি মনে করি, আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়গুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে শিক্ষা দেওয়া উচিত। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের যেসব ব্যানার- ফেস্টুন রয়েছে এগুলো করার চেয়ে না করাই ভালো ছিল। তাদের ভুলের কারণে নতুন প্রজন্ম ভুল শিখছে ও জানছে। তাদের উদাসীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’rnrnআন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই প্রসিকিউটর বলেন, ‘তথ্য মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের এখানে ভূমিকা রয়েছে। তাদের এসব বিষয়ে সমন্বয় করা উচিত, বিশেষ করে এত সেনসিটিভ একটি বিষয়ে তো বটেই। একটি সমন্বিত প্রয়াস সবসময় রাখতে হবে, যেন ভুল তথ্য মানুষের কাছে না পৌঁছায়। কারণ একটি ভুল তথ্য একটি বিকৃত তথ্যের সমান।’ rnrnমুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট সাইফুর মিশু বাংলা ট্রিবিউনকে এ বিষয়ে বলেন, ‘অন্তঃসারশূন্য লোকজন দিয়ে আর যাই হোক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গঠন হবে না। আমি মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী প্রজন্ম। অন্তত মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল ক্ষমতায় থাকাকালীন এ ধরনের ভুল আশা করি না। আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন আমাদের স্বাধীনতা, যা অর্জিত হয়েছে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে।’ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এসব ব্যাপারে অনেক সাবধান হওয়া প্রয়োজন জানিয়ে মিশু আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি তথ্য নির্ভুল হওয়া আবশ্যক। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক ব্যাপারগুলো সম্পর্কে অন্তত ভালোভাবে জানতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে যাদের ধারণা নেই, কেবল তাদের পক্ষেই একজন বীরশ্রেষ্ঠের ছবিতে অন্য একজন বীরশ্রেষ্ঠের নাম লেখা সম্ভব।’rnrnএ বিষয়ে কথা বলতে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল-ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হয় এবং খুদে বার্তা পাঠানো হয়। তা সত্ত্বেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

show more show less